আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে রাজধানীর ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন আইনি লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের শরিক এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
সোমবার সকালে নাহিদ ইসলাম নিজে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত করার জন্য আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করার প্রধান কারণ হলো তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব। আইনজীবী দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম প্রশান্ত মহাসাগরীয় ওশেনিয়া মহাদেশের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও রিটে আরও কিছু অভিযোগ করা হয়েছে।
নাগরিকত্ব লুকানো: এম এ কাইয়ুম ভানুয়াতুর নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামায় এই তথ্যটি সম্পূর্ণভাবে গোপন করেছেন।
সাংবিধানিক লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বা অনুগত থাকেন, তবে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন।
তথ্য গোপনের অপরাধ: দ্বৈত নাগরিকত্বের পাশাপাশি হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
রিট দাখিলের পর নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। যিনি নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে লুকোচুরি করেন এবং বিদেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেন, তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে তাঁর ভানুয়াতুর নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। আমি ন্যায়ের পক্ষে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোটারদের সত্য জানাতে চাই।
আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদি আদালত প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং প্রার্থিতা স্থগিত করে, তবে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যাবে।
ঢাকা-১১ আসনে মির্জা আব্বাসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এম এ কাইয়ুমের জন্য এই রিট বড় ধরণের রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে, নাহিদ ইসলামের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। আদালতের রায়ের ওপর এখন নির্ভর করছে ধানের শীষের এই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ব্যালট পেপারে থাকতে পারবেন কি না।