চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালস্থ হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়াধীন রোগীকল্যাণ সমিতি পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ২৩ ফেব্রুয়ারি “ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত ও রোগীকল্যাণে যাকাতের অর্থ ব্যবহার” শীর্ষক এক আলোচনা সভা, যাকাত সংগ্রহ এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। রোগীকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিডিএ জামে মসজিদ এর খতিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্ল্যাহর এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অফিসার ও রোগীকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা। হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্যাহর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক এর প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক ওয়াহীদুল আলম, সমাজসেবা অধিদফতর চট্টগ্রামের উপপরিচালকের প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা অফিসার রাশনা শারমীন, প্রিয়ংকা মুহুরী, সহসভাপতি ডাঃ তৈয়ব সিকদার, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোস্তফা, রোকেয়া জামান, মুজিবুল হক ছিদ্দিকী বাচ্চু, মাহামুদুল হাসান, ডাঃ এম এ মান্নান, ডাঃ এম এ জাফর, খোরশেদ আনোয়ার চৌধুরী, অধ্যাপক নঈম কাদেরসহ আরো অনেকে। বক্তারা বলেন আমরা সব জায়গায় সবকাজে প্রচুর অপব্যয় করি। কোথাও কোথাও লোক দেখানো সমাজসেবা করি। এসব অনর্থক খরচ বর্জন করে এই টাকা রোগীদের কল্যাণে রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিলে দান করলে একদিকে যেমন অসহায় রোগীরা উপকৃত হবে তেমনি অপরদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে। বক্তাগণ তাঁদের বক্তব্যে রোগীকল্যাণ সমিতির বিগত সময়গুলোর কাজের প্রশংসা করেন এবং রোগীকল্যাণ সমিতির সকল কাজে সহযোগিতার আশ্বস প্রদান করেন। প্রধান আলোচক ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব, কাদের জন্য যাকাত ফরজ এবং কোথায় কোথায় যাকাত প্রদান করা যায় তা কোরান ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করেন। প্রফেসর ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন রোগীকল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের জন্য অত্র হাসপাতালে কাজ করে যাচ্ছে। আমি শুনেছি এ সমিতি অনেকবার জাতীয়ভাবেও পুরস্কৃত হয়েছে। এ সমিতির কিছু ব্যতিক্রমধর্মী কাজ রয়েছে যা সাধারণত কোথাও হয়না যেমন মৃত মহিলাদের শরীয়ত সম্মতভাবে গোসল ও কাফন। একজন ইমানদার মানুষ যদি রোগীকল্যাণে তাঁর যাকাত প্রদান করেন তাহলে তিনি প্রথমত তাঁর যাকাত আদায় করতে পেরেছেন, দ্বিতীয়ত তাঁর যাকাত দিয়ে একজন মৃতপ্রায় মানুষ সুস্থ হয়ে তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারছেন এবং তৃতীয়ত তাঁর যাকাত রোগীকল্যাণে প্রদানের ফলে একজন অসহায় অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলস্রোতধায় সম্পৃক্ত হতে পারবেন। তাই রোগীকল্যাণে যাকাত প্রদান করার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। সভাপতির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন ১৯৬২ সাল থেকে রোগীকল্যাণ সমিতি অসহায় রোগীদের জন্য কাজ করছে। শুধু দরিদ্র রোগীদের সহায়তা নয়, প্রয়োজনে কাউন্সেলিংও করে থাকে। বিভিন্ন ওয়ার্ডেও বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করে থাকে। অতি সম্প্রতি নতুন ৩০ শয্যার আইসিইউতে অতি প্রয়োজনীয় ৫০ টি সিরিঞ্জ পাম্প প্রদান করে আইসিউগুলো চালু করতে সহযোগিতা করেছে। রোগীকল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর অর্থায়নে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপন চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি আশীর্বাদ। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী সহায়তা পাচ্ছেন রোগীকল্যাণ সমিতি হতে। আমাদের এসব কাজে প্রয়োজন প্রচুর অর্থ। চিকিৎসা বিদ্যা যেমন এগিয়েছে অনেকদূর তেমনি বেড়েছে এর ব্যয়। এই ব্যয় মেটানো গরিব রোগীগুলোর পক্ষে কঠিন। রোগীদের এই কঠিন সময়ে রোগীকল্যাণ সমিতি বন্ধুর মতো তাদের পাশে থাকে এবং তাদেরকে শক্তি ও সাহস যোগায়। তাই তিনি সকলকে রোগীকল্যাণ সমিতির সাথে থাকার এবং রোগীকল্যাণ সমিতির তহবিল গঠনে সহায়তা করার আহ্বান জানান। সভাশেষে রোগীকল্যাণ সমিতির যাকাত ও দান তহবিলে আগ্রহী দাতাবৃন্দ নগদ ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। তাছাড়া আরও প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক, চিকিৎসক, রোগীকল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যবৃন্দ, দাতাবৃন্দ, সরকারী বেসরকারী দফতরের ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সবশেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদার।