সময় এখন তথ্যপ্রযুক্তির। বর্তমান সরকার তার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আইসিটি তথা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গড়ে তুলছে আইটি ফার্ম। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুতগতির ফলে গড়ে উঠছে আউটসোর্সিংয়ের কর্মসংস্থান। ফ্রিল্যান্স ইনকাম সোর্স তৈরি হচ্ছে। দেশে হাজার হাজার যুবক এখন মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে এই আইসিটিকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। সেক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক হয়ে উঠতে পারে আরেকটি কর্মসংস্থান ক্ষেত্র। তথ্যপ্রবাহ সরবরাহের অন্যতম শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এখন মোবাইল ফোন। মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে সংঘটিত সব তথ্য আনা সম্ভব। মোবাইল প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে গড়ে উঠতে পারে জার্নালিজম ক্যারিয়ার। কেননা দেশে ১২ কোটিরও বেশি মানুষ এখন মোবাইল ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে তিন কোটিরও বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। সেদিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ঘিরে মোবাইল জার্নালিজমের ওপর ক্যারিয়ার গড়া সময়ের ব্যাপার।
তাছাড়া সময় এখন স্মার্ট হওয়ার। খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, পোশাক-আশাকে, কথাবার্তা এবং সাজসজ্জায় সবকিছুতেই এখন স্মার্টনেস লক্ষ করা যাচ্ছে। এই স্মার্ট সময়ে প্রত্যেকের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। এই স্মার্ট ফোন দিয়েই গড়া যাবে গণমাধ্যমের নতুন এক ক্যারিয়ার। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবের স্থলে একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন দিয়েই করা যাবে গণমাধ্যমের কাক্সিক্ষত কাজ। নিউজ টাইপিং, এডিটিং, ভিডিও, অডিও রেকর্ড, ইমেজ এডিটিং এমনকি ভিডিও লাইভও দেখানো যাবে মোবাইল দিয়ে।
যেভাবে মোবাইল সাংবাদিক হওয়া সম্ভব : যদি আপনার কাছে একটি স্মার্টফোন থাকে। হোক সেটা যে কোনো ব্রান্ডের। যদিও আমরা অনেকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নই। এক্ষেত্রে যারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নই, তারা ব্যবহার করতে পারি স্বল্প দামের অ্যানড্রয়েড মোবাইল সেট। এখন অবশ্য প্রত্যেকটি অ্যানড্রয়েড মোবাইল সেটে নানান সুবিধা দেওয়া থাকে। যুক্ত করা যায় বিভিন্ন অ্যাপ। এসব অ্যাপ দিয়ে সহজেই কাক্সিক্ষত কাজগুলো সারা যায়। বর্তমানে ৬ হাজার টাকা থেকে ওপরের দামের সবকটি মোবাইল সেট টাচ বা অ্যানড্রয়েড হিসেবে দেখা যায়। এসব মোবাইল দিয়েও গণমাধ্যমের কাজ করা যাবে।
মিডিয়ায় কাজ করতে স্মার্ট ফোনে যা থাকা জরুরি : স্মার্টফোন কেনার আগে দেখতে হবে সেটটির ক্যামেরার রেজল্যুশন কেমন। রেজল্যুশন কত। আলোকচিত্র পরিষ্কার কি না। কেননা এই ক্যামেরা দিয়েই বিভিন্ন পরিবেশে অবস্থান করে ছবি তুলতে হবে। জানতে হবে কখন ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ মারতে হবে। অবশ্য প্রায় সব অ্যানড্রয়েড বা স্মার্টফোনের ক্যামেরার সঙ্গে ফ্ল্যাশ যুক্ত থাকে। তাই হাইরেজল্যুশন সম্পন্ন ক্যামেরা মোবাইল নিলে কাক্সিক্ষত ঝকঝকে ছবি ও ভিডিও বেশ গুরুত্ব বহন করবে।
যোগ দিন মোবাইল সাংবাদিকতায় : হাতে হাতে যখন নানান ব্রান্ডের মোবাইল ফোন। সময়ের অনুপম সঙ্গী হচ্ছে এই মোবাইল। আজ মোবাইল প্রযুক্তি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। কেননা এই মোবাইল ফোন দিয়ে একাধারে ভয়েস কল, এমএমএস, এসএমএস এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে ফেসবুক, টুইটার, ভাইভারের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি আর অনলাইন নিউজ পোর্টাল, অনলাইন ও মোবাইল টিভি, মেইল আদান প্রদানসহ অপার সুবিধা যুক্ত হয়েছে মোবাইলে ইন্টারনেট যুক্ত হওয়ায়। বাংলাদেশ সরকার আইসিটি অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমের নতুন মিডিয়া হিসেবে মোবাইল সাংবাদিকতা এখন সময়ের অপার চাহিদা হয়ে দাঁড়াবে। তাই যার হাতে রয়েছে একটি স্মার্ট বা অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন। তিনিই শুরু করতে পারেন মোবাইল সাংবাদিকতা। সাধারণ নাগরিক থেকেই আসা যাবে এই পেশায়।
কীভাবে হবেন মোবাইল সাংবাদিক : এবার প্রস্তুত হন আপনার হাতের স্মার্টফোনটি নিয়ে। চোখ মেলে তাকান আপনার চারপাশে ঘটছে নানা ঘটনা। দুর্ঘটনা, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ, ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাদামনের মানুষসহ নানা ঘটনাগুলো চিহ্নিত করুন। আপনার চোখের সামনেই ঘটছে এগুলোর কোনো না কোনো একটি। আপনার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিই মোবাইল ধারণ করুন। মোবাইলটাই আপনার ক্যামেরা। ক্যামেরায় ছবি অথবা ভিডিও করে ফেলুন। এরপর ঘটনাটির ওপর একটা শর্ট মেসেজ (খুদে বার্তা) টাইপিং করুন। ঘটনাটি কখন, কোথায়, কীভাবে সংঘটিত হয়েছে এর একটা বিবরণ টাইপ করুন। টাইপিং হয়ে গেলে সংবাদটি আপনার এলাকায় মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এমন কাউকে শেয়ার করতে পারেন ভয়েস কলের মাধ্যমে। অথবা সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকেও পোস্ট করতে পারেন।
মোবাইল থেকে প্রফেশনাল সাংবাদিকতা : সাংবাদিকতা পেশায় আসতে হলে অবশ্যই এ পেশা সম্পর্কে জানতে হয়। ক্ষুদ্র থেকে শুরু করতে হয়। অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমের ওপর অনার্স/মাস্টার্স বা ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে ইমেজ মিডিয়া ট্রেনিং সেন্টার, নিউ মার্কেটে এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, দারুসসালামে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলায় পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া, তেজগাঁওয়ে রাধাচূড়া মিডিয়া একাডেমিসহ এরকম আরো প্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশে যেহেতু এখনো মোবাইল জার্নালিজমের প্রচলন শুরু হয়নি। তবে তথ্যসুবিধা অতি সহজে পেতে মোবাইল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তথ্যসুবিধা দিতে সাধারণ নাগরিকও ফ্রিল্যান্স মোবাইল সাংবাদিক হতে পারেন। এতে ক্যারিয়ার যেমন গড়া হবে, আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ইনকাম সোর্সের ব্যবস্থা তৈরি হবে। আর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার মোবাইল জার্নালিজম ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া অতিদ্রুত তথ্য পেতে (কারেন্ট ইনফরমেশন) মোবাইল প্রযুক্তির বিকল্প নেই। যেখানেই ঘটনা, সেখানেই খবর এটাই হচ্ছে মোবাইল সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংঘটিত ঘটনাগুলো সাধারণত গণমাধ্যমে সহজে উঠে আসে না। আসলেও সেটা দেরি হয়ে যায়। সেটার কারণ হচ্ছে মফস্বল সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো দেরি হয়ে যায়। আবার অনেক সময় ঘটনাটিই আড়াল হয়ে যায়। তাই মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল জার্নালিজম বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ তথা বিশ্বের যেকোনো স্থানে যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, তা মোবাইলে পাওয়া সম্ভব হবে। আর এই কাজটা করতে পারেন যে কোনো পেশাজীবীর একজন সাধারণ নাগরিকও।