বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

যে ৩০ আসনে ফলাফল পুনঃগণনার দাবি জামায়াতের

বাংলা স্ক্রিন নিউজ ডেস্ক / ৭৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির মুখপাত্র এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
ফলাফল ঘোষণায় ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ অভিযোগ তুলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি সুস্থ, সুন্দর নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছে। এবং সে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও সে নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রেই কারচুপি হয়েছে, জালিয়াতি হয়েছে এবং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে, এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি সেখানে তৈরি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ৩০টি আসনে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখেছি। যেখানে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি হয়েছে। আমরা এ সমস্ত বিষয় নির্বাচনের দিনও জানিয়েছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, কিছু কিছু আসনে রেজাল্ট দিতে মারত্মকভাবে দেরি হয়েছে। ঢাকার কয়েকটি আসেনে ভোর ৫টার সময় গিয়ে আমরা রেজাল্ট পেয়েছি। অন্যদিকে, কিছু আসনে বিদ্যুৎ গতিতে রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের চরমভাবে পক্ষপাতমূলক কিছু আচরণ করা হয়েছে। যে সমস্ত আসনে অনিয়ম হয়েছে স্থানীয়ভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পুন:ভোট গণনার আবেদন দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যে ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় আমরা নেব।
এসময় সারাদেশে সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছে এবং ফেনীর দাগনভূঞায় হামলায় আহত এক কর্মীর মা ছেলের শোকে মারা গেছেন। মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটেও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়া ও দোকানপাট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিজয়ীদের পক্ষ থেকে কর্মীদের শান্ত রাখার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ জামায়াত নেতা।
পরে সারাদেশের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারের ব্যবধানে হেরে যাওয়া জামায়াতের ৩০টি আসনের প্রাথমিক তালিকা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে এসব আসনে ফলাফল স্থগিত রেখে পুনঃগণনার দাবি জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। উল্লেখযোগ্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে—পঞ্চগড়-১ (৮৯২০ ভোট), ঠাকুরগাঁও-২ (৫৩১০), দিনাজপুর-৩ (৪৫৮৯) ও দিনাজপুর-৫ (৪৮৩১), লালমনিরহাটের দুটি আসনে ৯১৪১ ও ৮১৯১ ভোট, গাইবান্ধা (৩০৩৪), বগুড়া ৩(২১৫৬), সিরাজগঞ্জ-১ (৮৪০০) ভোটের ব্যবধান।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রথমদিকে বিজয়ের ইঙ্গিত থাকলেও পরবর্তীতে ‘ঘষামাজা’ করে ১০২৬ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, পিরোজপুর-২ এবং ময়মনসিংহের তিনটি আসনেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে কিছু নথি উপস্থাপন করে অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল প্রিন্ট কপি দেওয়ার কথা থাকলেও গ্যান্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে হাতে লেখা বা কার্বন কপি দেওয়া হয়েছে। কবি নজরুল ইসলাম কলেজ কেন্দ্রে ফলাফল পেনসিল দিয়ে লেখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াতের প্রকৃত কর্মী নন—এমন ব্যক্তিদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। অনেক রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টের নাম, স্বাক্ষর বা এনআইডি নম্বর না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এ বিভাগের আরো সংবাদ