শিরোনাম :
বার্ন ইনস্টিটিউটে অনিয়মের অভিযোগ: অস্তিত্বহীন পদে নিয়োগ, ক্রয়ে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিতর্কে পরিচালক কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার মুখোমুখি, খেলা কবে এনসিপির সমাবেশে হামলার অভিযোগ, সংসদে আখতার হোসেন চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড মেসির জাদুতে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে রোমাঞ্চকর জয়, শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব: জয়ী শিবা শানু–জয় চৌধুরী প্যানেল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটযুদ্ধ আজ এখন সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী ক্রোয়েশিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

সকলের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ : মির্জা ফখরুল

বাংলা স্ক্রিন নিউজ ডেস্ক / ১০৩ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

মির্জা ফখরুল লিখেছেন, আমি যখন রাজনীতি শুরু করি, আমার দু’চোখে সমাজ বদলানোর স্বপ্ন। সে প্রায় ৬০ বছর আগের কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। মানুষের কাজ করে গেছি। ছাত্র পড়িয়েছি, সরকারি চাকরি করেছি। সরাসরি রাজনীতিতে আবার ফিরে আসি ৮৮-তে।

তিনি লেখেন, বিএনপি সরকারের শাসনামলে ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আজও এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তখন ঠাকুরগাঁও বদলেছে। কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ, সব খাতেই ছিল পরিকল্পিত অগ্রগতি।

তিনি আরও লেখেন, ২০০৫ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে পানির অপচয় কমে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০ একর নতুন জমি কৃষির আওতায় আসে। এই প্রকল্পই ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত শক্ত করে।

মির্জা ফখরুল লিখেন, আমি শুধু কৃষিতে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দিকেও নজর দিয়েছি। গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাস উত্তরাঞ্চলে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই আজ হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের ভিত্তি।

তিনি বলেন, ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬— এই দুই মেয়াদে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামকে গ্রামের সঙ্গে, মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিএনপি। নতুন গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিস্তারে কৃষি, ব্যবসা ও ঘরোয়া জীবনে গতি আসে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষা পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকায়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসে। একই সময়ে ১ হাজার ২৬০টি গভীর নলকূপ চালুর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার বিপ্লব ঘটে, যা কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, এই উন্নয়নের পেছনে নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলাম। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে আমি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই। কৃষক সমবায় ও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন ছিল আমার অন্যতম কাজ।

তিনি বলেন, আজ আমার বয়স ৭৮। গত ১৭ বছর গেছে গণতন্ত্রের সংগ্রামে। ১১ বার জেল। কী পেয়েছি, কী করতে পেরেছি- তা আল্লাহ জানেন, আর মাটিতে জনগণ। কিন্তু নীতির প্রশ্নে আপস করিনি। আল্লাহ জানেন। দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে আরও ঋণী করেছে। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহর অনেক রহমত। আমি আছি আপনাদের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী চাকরি করেছে ও আমার মেয়েদের বড় করেছে। মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। বড় মেয়ে বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়েছে। ওরা নিজ নিজ কর্মস্থলে আছে। আজ আমি ওদের ধন্যবাদ দেই, আমাকে সাথ দেবার জন্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আজও এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখি ও কাজ করি। আজকের তরুণেরা আমার সন্তানসম। এদেশে আমার সব সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।


এ বিভাগের আরো সংবাদ