শিরোনাম :
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঢাকায় ১১ দলের মহাসমাবেশের ডাক জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: কয়েক মাইলজুড়ে লাইন, নগরজুড়ে তীব্র যানজট আজ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সংস্কৃতি হলো একটি জাতির আত্মা’ : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ১৭ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ পাকিস্তানের আবেগের বশে বিয়ে করা ছিল জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত: অপু বিশ্বাস কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল করতেই কৃষক কার্ড : প্রধানমন্ত্রী আসছে সেলিম রেজা পরিচালনায় ‘ফিরতে তোমায় সাধবো না আর’
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

বাংলা স্ক্রিন নিউজ ডেস্ক / ১৫ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই শোভাযাত্রাটি রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। বসন্ত ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন বলে জানা যায়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এতে যুক্ত হন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনের নানা উপাদানকে সামনে রেখে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা এবং কৃষিভিত্তিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামগ্রী ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব উপকরণ একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে, অন্যদিকে তেমনি বাংলার কৃষিনির্ভর সংস্কৃতির গভীরতাকেও প্রকাশ করে।শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গান পরিবেশন করেন। এতে করে পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পথচারীরাও অনেক ক্ষেত্রে থেমে এই আয়োজন উপভোগ করেন এবং মোবাইল ফোনে তা ধারণ করেন বলে দেখা যায়।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির নিজস্ব একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বক্তাদের মতে, বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ নয় বরং দেশীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করাই একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার পরিচয়কে শক্তিশালী করতে পারে।

তারা আরও বলেন, গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক চর্চার মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে তারা মন্তব্য করেন।

আয়োজকদের দাবি, এই ধরনের শোভাযাত্রা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, বৈশাখী উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সার্বজনীন সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে বিবেচিত।

তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও মতামতও দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে সংস্কৃতির প্রসার হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ কেউ এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করেন। এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের মূল উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং সমাজে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি করা।


এ বিভাগের আরো সংবাদ