ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস তার ব্যক্তিগত জীবন, ক্যারিয়ার এবং অতীত সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, খুব অল্প বয়সে আবেগের বশে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের বড় ভুল।
বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস দীর্ঘদিন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন পর্দায়। একসঙ্গে তারা একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিলেন। পর্দার বাইরে এই জুটির সম্পর্ক ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত জীবনে গড়ায় এবং ২০০৮ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন থাকার পর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি টেলিভিশন লাইভ অনুষ্ঠানে এসে অপু বিশ্বাস নিজেই বিয়ের খবর প্রকাশ করেন। সেই ঘটনা তখন বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এই দম্পতির একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস তার সেই সময়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলেন, খুব অল্প বয়সে আবেগের বশে বিয়ে করা তার জীবনের ভুল ছিল। তিনি মনে করেন, পরিপক্বতা না আসা পর্যন্ত কোনো নারীরই তাড়াহুড়া করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তার মতে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা ও পরিপক্বতার ভিত্তিতে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে নতুন করে ঘর বাঁধার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অবস্থায় তিনি নেই। ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে তিনি এখন সময় নিয়ে ভাবছেন এবং নিজের কাজ ও সন্তানের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রল প্রসঙ্গেও কথা বলেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, এসব নেতিবাচক বিষয় তাকে খুব বেশি প্রভাবিত করে না। বরং তিনি এসব এড়িয়ে চলেন এবং অনেক সময় বিষয়গুলোকে হালকাভাবেও নেন।
তার মতে, একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমালোচনা আসবেই, তবে সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অপু বিশ্বাস আরও বলেন, ক্যামেরার সামনে তার আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে তিনি আবেগপ্রবণভাবে অনেক কিছু প্রকাশ করতেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিখেছেন কীভাবে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়