সর্বশেষ আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছে উরোপিয়ান মেডিটারিনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি)। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা এই ঘন ঘন কম্পনকে বড় ধরনের দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে ছোট ছোট কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি বা হার ভবিষ্যতে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ইঙ্গিত হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম রাজ্যে, যা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের খুব কাছেই অবস্থিত।
গতকাল বুধবার রাতেও দেশে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশের মানচিত্রে ভূমিকম্পের এক ধারাবাহিক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার কম্পনের মাধ্যমে এই মাসটি শুরু হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পর পর দুবার কেঁপে ওঠে দেশ, যার কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারে।
একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় সিলেট অঞ্চলে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন আঘাত হানে।
এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। এভাবে ধারাবাহিকভাবে আজ পর্যন্ত ১০টি ভূমিকম্পের সাক্ষী হলো দেশবাসী।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূত্বকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হতে থাকলে তা ছোট ছোট কম্পনের মাধ্যমে আংশিক মুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো শক্তি মুক্ত না হলে তা মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।