বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবে

বাংলা স্ক্রিন নিউজ ডেস্ক / ১০০ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন রূপ দিতে পারে। এ নির্বাচন ঘিরে বেইজিং তাদের প্রভাব সুসংহত করতে চাইছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটা টালমাটাল হয়ে পড়ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই দেশের প্রথম নির্বাচন। প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা জোরদার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার প্রকৃত অর্থেই চীনের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর সম্পর্কিত চীনের কৌশলগত চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’

গত জানুয়ারিতে দুই দেশ ভারতের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার একটি অপরিবর্তনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

এর বিপরীতে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত টানাপোড়েন চলছে। সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ও অভিযোগের পর দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়ে। তবে জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। নির্বাচনে এগিয়ে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের প্রতিও সমবেদনা বার্তা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ দোন্থি বলেন, উভয় পক্ষই সম্পর্কের অবনতির সমাধান না করার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। তাই তাদের বাস্তববাদী অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে ঢাকা।

অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি জিতলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া মানেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতা নয়। এ দুই সম্পর্কই একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক উপ-হাইকমিশনার দিলীপ সিনহা বলেন, চীন এমন অবকাঠামো দিচ্ছে যা ভারত পারে না। কিন্তু ভারত বিদ্যুৎ ও পোশাকশিল্পের কাঁচামালের মতো জরুরি জিনিস সরবরাহ করে যা বাংলাদেশের প্রয়োজন।


এ বিভাগের আরো সংবাদ