বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের নিয়ে নাজমুলের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারতে যাওয়া নিয়ে টানাপড়েন চলছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!
এর আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ফেসবুক পোস্টে ‘ভারতীয় দালাল’ লিখেও সমালোচনার মুখে পড়েন নাজমুল। তার এসব বিতর্কিত মন্তব্য ‘গ্রহণযোগ্য’ নয় মনে করে কোয়াব।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, আপনারা সবাই জানেন শেষ কিছুদিন ধরে যা হচ্ছে। প্রথমে একজনের ওপর, এরপর এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যেভাবে কথা বলা হচ্ছে, যেসব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আমরা আশা করি না। ভাষাগতভাবে একজন পরিচালকের আরও সাবধান হওয়া উচিত। বিশেষ করে উনি যা বলেছেন এটা পুরো ক্রিকেটাঙ্গনকে হার্ট করেছে।
বিকেলে একই সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা ব্যর্থ হলে বিসিবি টাকা ফেরত চায় না এমন উদাহরণও দেন এম নাজমুল। ক্রিকেট বোর্ড আগে নাকি ক্রিকেটাররা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধরুন বোর্ডটাই যদি না থাকে, তাহলে ক্রিকেট মানে ক্রিকেটাররা থাকবে কি না?
তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেছেন, উনি যেভাবে আমাদের সব ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তো উনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।
আগামীকাল দুপুর একটায় দ্বাদশ বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে খেলার কথা নোয়াখালী এক্সপ্রেস–চট্টগ্রাম রয়্যালস। সন্ধ্যায় অন্য ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়রসের প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটানস।
মিঠুনের খেলা বয়কটের আল্টিমেটামের আগেই বিসিবি সংবাদবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, বোর্ডের কোনো পরিচালক বা সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্য বিসিবির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া কিছু বক্তব্যে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য বিসিবির মূল্যবোধ, নীতি কিংবা আচরণবিধির প্রতিফলন নয়।